ব্যবস্থাপক বা ম্যানেজার কে?

ব্যবস্থাপক বা ম্যানেজার এমন একজন ব্যক্তি যিনি ব্যবস্থাপকীয় কার্যাবলি সম্পাদন করার জন্য মূলত দায়ী থাকেন। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে বলা যায়, তিনিই হলেন একজন ব্যবস্থাপক যিনি কোনো সংগঠনের পরিকল্পনা প্রনয়ন করেন, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, কার্যাবলি ও সম্পদ সংগঠিত করেন, নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে নিয়ন্ত্রন করেন।

বর্তমান যুগের ব্যবস্থাপকগণ চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন প্রতিনিয়তই। তাদেরকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয় তাদের ওপর থাকে প্রচণ্ড চাপ। বিশ্বায়ন (Globalization), দেশের ভেতরে প্রতিযোগিতা, সরকারি নিয়ন্ত্রণবিধি এবং শেয়ারহোল্ডারদের চাপের কারণে ব্যবস্থাপকগণ জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন।


একজন ব্যবস্থাপক অন্যদেরকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেন। তিনি তার দলের সদস্যদের বা অধীনস্থ কর্মীদের কাজের জন্য দায়ী থাকেন। তাই বলা হয়, যিনি অন্যদের কাজ অল্পবধান করেন ও তাদের কাজের জন্য দায়ী, তিনিই ব্যবস্থাপক লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেন, অধীনস্থদের নির্দেশ-পরামর্শ প্রদান করেন, প্রয়োজনীয় সম্পদের যোগান দেন এবং সকল কর্মীর কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন করেন।
ব্যবস্থাপক বা ম্যানেজার কে

ম্যানেজার বা ব্যবস্থাপকের দক্ষতা :-

একজন ব্যবস্থাপককে সুচারুরূপে তাঁর দায়িত্ব পালন করার জন্য তাকে কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এগুলো অর্জন করলে তাকে একজন আদর্শ ব্যবস্থাপক বলা হবে। প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা অতি জরুরি। তাহলে আসুন ব্যবস্থাপকের দক্ষতাগুলো জেনে নেই।

১. কারিগরি দক্ষতা :-

বিশেষ কোনো কাজের ওপর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করাকে কারিগরি জ্ঞান বলে। ব্যবস্থাপককে ব্যবস্থাপনা সম্পর্কীয় কারিগরি জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। শুধু তাই নয় তাকে সমসাময়িক কারিগরি জ্ঞান সম্পর্কে update থাকতে হবে।

২. মানবীয় সম্পর্কে দক্ষতা :-

একজন ব্যবস্থাপককে মানুষ তথা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়ে কাজ করতে হয়। এছাড়া টিমের অন্যান্য সদস্যদের কাজ করার জন্য তাকে আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।

Weihrich and Koontz.-এর মতে, মানবীয় দক্ষতা হলো কর্মীদের সাথে কাজ করার সামর্থ্য। এ ধরনের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ব্যবস্থাপক খুব সহজেই কর্মীর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন:- রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় কাকে বলে?

৩. ধারণাগত দক্ষতা :-

একজন ব্যবস্থাপককে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নানা বিষয় সঠিকভাবে বোঝার দক্ষতা থাকতে হবে। আর এটিকেই ধারণাগত দক্ষতা বলা হয়। ধারণাগত দক্ষতা বলতে প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিকতার সাথে সঠিকভাবে দেখার ক্ষমতাকে বোঝায়। সোজা কথা ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানকে own করবে।

Terry and Franklin এ বিষয় বলতে গিয়ে বলেছেন যে, বিশেষ অবস্থায় সংগঠনকে বোঝা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে অবস্থার উত্তরণ ঘটানোর সামর্থ্যই হলো ধারণাগত দক্ষতা।

৪. বিশ্লেষণমূলক দক্ষতা :-

ইংরেজিতে একটি কথা আছে তা হলো 'Managing in a dynamic environment'- এ দ্বারা বোঝায় কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যবস্থাপককে বিচারবিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সুতরাং ব্যবস্থাপককে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা থাকতে হবে।

৫. যোগাযোগ দক্ষতা :-

ব্যবস্থাপককে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের এবং বাহিরের পক্ষসমূহের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করতে হয়। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত তাকে নিজস্ব জ্ঞান, ধারণা ও মতামত অধঃস্তনের মাঝে জানাতে হয়। সুতরাং তাকে অবশ্যই পর্যাপ্ত যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

ওপরের আলোচনায় দেখা যায় ব্যবস্থাপকের কার্যকারিতা নির্ভর করছে তিনি কতটুকু দক্ষ। এ ক্ষেত্রে কারিগরি দক্ষতা তাকে একজন সফল ব্যবস্থাপক হতে সহায়তা করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ