মূল্য কাকে বলে? মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য?

বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে পণ্য মূল্যের পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক অবস্থা, ইন্টারনেট সুবিধা এবং ভ্যালুকেন্দ্রিক বিক্রেতার আধিকা ইত্যাদির ফলে ক্রেতা কম ব্যয়ে (Spend-less) পণ্য ক্রয় করতে বেশি আগ্রহী।

সে কারণে বিপণনকারী কম মূল্যে পণ্য বাজারে সরবরাহ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে। কিন্তু পণ্যের মূল্য হ্রাস করলে বিপণনকারী অপ্রয়োজনীয়ভাবে মুনাফা এবং ক্রেতার কাছে ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে। সে করণে বিপণনকারীকে সবসময়ই ক্রেতাকে সন্তুষ্ট করে এমনভাবে মূলা কৌশল নির্ধারণ করতে হয় যেন ক্রেতা ভালু সৃষ্টি করা যায় আবার প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জিত হয়। এখন প্রশ্ন হলো মূল্য বলতে কী বোঝায়?

মূল্য কাকে বলে :-

সহজ ভাষায়, মূল্য হচ্ছে একটা পণ্য বা সেবা ক্রয়ের জন্য ধার্যকৃত অর্থের পরিমাণ।

বিপণন মিশ্রণের সকল উপাদানের মধ্যে শুধুমাত্র মূল্য থেকেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আর্থিক সুবিধা লাভ করে; বাকি সব উপাদান পণ্য, প্রসার, বণ্টনের জন্য প্রতিষ্ঠানকে ব্যয় বহন করতে হয়। টাকা-পয়সা, ডলার বা পাউন্ড স্টার্লিং যেকোনো মুদ্রায় মূল্য প্রকাশ করা যায়। যে দেশে মুদ্রার যে নাম প্রচলিত, সে নামেই পণ্যের মূল্য প্রকাশ করা হয়।

Philip Kotler & Gary Armstrong মূল্যকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এইভাবে, "Price is the sum of all the values that customers give up to gain the benefits of having or using a product or service,"

অর্থাৎ মূল্য হলো কোনো পণ্য বা সেবা পাওয়া বা ব্যবহার করার সুবিধা অর্জন করার বিনিময়ে যে সকল ভালু ত্যাগ করে তার যোগফল।

William J. Stanton মূল্যের যে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন তা হলো, "Price is value expressed in terms of dollars and coins or any other monetary medium of exchange.

অর্থাৎ ডলার, সেন্ট বা অন্য কোনো আর্থিক বিনিময় মাধ্যমে প্রকাশিত দৃশ্যমানকে মূল্য বলে।
মূল্য কাকে বলে

অন্যভাবে বলা যায়, একজন ভোক্তা একটা পণ্য ভোগের মাধ্যমে বা কোনো সেবা গ্রহণের মাধ্যমে যে সুবিধা পেল এবং তার বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ দাতাকে প্রদান করে তাকে মূল্য বলে।

যেমন- ১০ টাকার বিনিময়ে ক্রয়কৃত কলম থেকে ক্রেতা কাগজে লেখার সুবিধা পেল। আবার বিপণনে মূল্য বলতে এমন একটি বিন্দু বা পয়েন্টকে বোঝানো হয় যেখানে বিক্রেতা যে পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে ইচ্ছুক, ক্রেতাও ঠিক একই পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে রাজি থাকে।

মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য :-

বিপণনকারী পণ্যের মূল্য স্থির করার পূর্বেই নির্ধারণ করে নেয় মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্য কী হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। মূল্য নির্ধারণের সাধারণ উদ্দেশ্য হলো তীব্র প্রতিযোগিতা ও পরিবর্তনশীল চাহিদার মধ্যে প্রতিষ্ঠান যেন বাজারে টিকে থাকতে পারে।

অধিক পরিমাণ মুনাফা অর্জনের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে। সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের জন্য বিপণনকারী সব সময় সচেষ্ট থাকে। বিনিয়োগ বা নিট বিক্রয়ের ওপর নির্দিষ্ট শতকরা হারে মুনাফা অর্জনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। এক্ষেত্রে মুনাফার হার একই রকম থাকতে পারে। তবে বিক্রীত পণ্যের পরিমাণে হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট মুনাফার পরিমাণে তারতম্য হয়।

পণ্যের মূল্যে স্থিতিশীলতা বজায় রেখে মুনাফা অর্জন কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্য থাকে। ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের অনেক ক্ষেত্রের মূল্য নির্ধারণের অন্যতম লক্ষ্য হলো বর্তমানে দখলীকৃত বাজার অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করে কিংবা বাজারের পরিধি আরো বিস্তৃত করার চেষ্টা করা।

একটি প্রতিষ্ঠান কতটুকু বাজার তার দখলে আছে তা বিভিন্ন উপায়ে নির্ণয় করতে পারে। প্রতিষ্ঠান যদি দেখে যে, বর্তমান বাজার বজায় রাখতে পারলেই তার জন্য যথেষ্ট তাহলে সে এমনভাবে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে যেন তার বাজার বিঘ্নিত না হয়।

পণ্যের বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি করাও মূল্য নির্ধারণের অন্যতম উদ্দেশ্য। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বিক্রয় বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সঠিকভাবে মূল্য নির্ধারণের জন্য প্রচেষ্টা চালায়। তারা এমনভাবে মূল্য নির্ধারণ করে যাতে পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি পায়।

ছোট বা বড় অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদরা শুধু প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করার জন্য সচেতনভাবে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে। একই জাতীয় পণ্য উৎপাদকের প্রতিযোগিতা প্রতিহত করার উদ্দেশ্য নিয়েও অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ