যোগাযোগ পদ্ধতি কাকে বলে? যোগাযোগ পদ্ধতি কত প্রকার ও কি কি?

যোগাযোগ পদ্ধতি ভাষার সাথে সম্পৃক্ত। যোগাযোগে যে পদ্ধতিই ব্যবহার করা হোক না কেন, এতে ভাষায় সাহায্য নিতে হয়। কাজেই যোগাযোগের পদ্ধতিগুলো আলোচনার পূর্বে ভাষার ওপর কিছু আলোকপাত করা প্রয়োজন।

ভাষা কী? মানুষের চিন্তাধারা এবং ভাবাবেগের প্রকাশ ও আদানপ্রদানের জন্য যে সব সংকেত ব্যবহার করা হয়, সেসব সংকেত ব্যবহারের পদ্ধতিকে ভাষা বলে।

ভাষা মৌখিক ও অমৌখিক উভয় প্রকারের হতে পারে। শব্দের ওপর ভিত্তি করে ভাব প্রকাশের পদ্ধতিকে মৌখিক ভাষা বলে। অপরপক্ষে, হাসি এবং ভাবভঙ্গি, কার্যাবলি, নীরবতা, ছবি, চার্ট, মডেল, থাক অথবা অন্যান্য সাংকেতিক চিহ্ন দ্বারা বা গাণিতিক চিহ্ন‍ দ্বারা অমৌখিক ভাষা প্রকাশ করা হয়। আবার মৌখিক ভাষা বাচনিক ও লিখিত উভয় প্রকারের হতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে, ব্যবসায়িক যোগাযোগে অমৌখিক ভাষার চেয়ে মৌখিক ভাষা বহুল পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। প্রকাশের মাধ্যম অনুসারে যোগাযোগকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।

১. বাচনিক (বা মৌখিক) যোগাযোগ (Oral communication or verbal communication)।
2. লিখিত যোগাযোগ (Written communication)।
৩. ভাবসূচক যোগাযোগ বা অমৌখিক যোগাযোগ (Non-verbal communication) এবং
৪. চাক্ষুষ বা ভিজুয়াল যোগাযোগ (Visual communication)।

আসুন এ পদ্ধতিগুলো কী তা সংক্ষিপ্তভাবে জেনে নেই।

বাচনিক বা মৌখিক যোগাযোগ কাকে বলে :-

'বচন' থেকে বাচনিক কথাটির উৎপত্তি। বচন মানে কথা। তাই কথা বা বচন দ্বারা কেউ অন্যের সাথে ভাব বিনিময় করলে তাকে ব হয় বাচনিক যোগাযোগ।

বাচনিক যোগাযোগ হলো ভাবের অলিখিত মৌখিক প্রকাশ। এতে শব্দ ব্যবহার করা হয় বটে, তবে এটা লিখিতভাবে ব্যবহার না করে কথার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়।

ব্যবসা-সংক্রান্ত যোগাযোগের অধিকাংশই বাচনিক যোগাযোগ। এমনকি লিখিত দলিলগুলোও শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বাচনিক শব্দের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়।

সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, মুখে মুখে কথার মাধ্যমে যে যোগাযোগ স্থাপন করা হয় তাকে বাচনিক যোগাযোগ বলে।
যোগাযোগ পদ্ধতি কাকে বলে

লিখিত যোগাযোগ কাকে বলে :-

মুখে কথা না বলে কাগজে কলমে লিখে যে যোগাযোগ করা হয় তা লিখিত যোগাযোগ নামে পরিচিত।

লিখিত যোগাযোগে শব্দের ব্যবহার আছে কিন্তু তার ব্যবহার বচনের মাধ্যমে না হয়ে হয় লেখার মাধ্যমে। তাই লিখিত যোগাযোগ মানেই হলো শব্দের প্রয়োগকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করে যোগাযোগ সাধন।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে লিখিত যোগাযোগ বাচনিক যোগাযোগের চেয়ে অনেক কম ব্যবহার হলেও তা কম গুরুত্ব বহন করে না। ব্যবসায়ে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য যে পদ্ধতিটি প্রায়শঃ গ্রহণ করা হয়, তা লিখিত যোগাযোগ।

লিখন সহজ কাজ নয়, এটা একটি কৌশল বা আর্ট। সুলিখনের জন্য সুশিক্ষণ দরকার, দক্ষতার প্রয়োজন। লিখন সাধারণ ব্যাপার হলেও সবাই লিখতে পারে না। লিখিত যোগাযোগ পরোক্ষ ও অব্যক্তিক, তাই এতে তৎক্ষণাৎ ফলাফল জানার সুযোগ থাকে না।

কিন্তু তথাপি আমরা দিখে থাকি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের একটি অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে লিখন পদ্ধতি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। লিখিত যোগাযোগের বিষয়বস্তুর বিকৃতির সম্ভাবনা থাকে না বলে লিখনকে যোগাযোগের একটি উত্তম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অমৌখিক যোগাযোগ কাকে বলে :-

মুখের কথা এবং লেখা ছাড়াও আমরা অঙ্গভঙ্গি দ্বারা যোগাযোগ করতে পারি। অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে যখন মনের ভাব প্রকাশ করা হয় তখন তাকে অমৌখিক যোগাযোগ বলে।

অমৌখিক যোগাযোগে কথা কিংবা লেখা থাকে না, থাকে শারীরিক ভঙ্গি অর্থাৎ শরীরের ভাষা। শরীরের ভাষা মনের ভাষার অলিখিত প্রকাশ। তাই অমৌখিক যোগাযোগকে অনেকে 'দেহ ভাষা' (body language) নামে অভিহিত করে থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে অমৌখিক যোগাযোগ মৌখিক যোগাযোগের চেয়ে অধিকতর কার্যকর বলে প্রমাদিত হয়। চেহারার ভাব পরিবর্তন, ভাব-ভঙ্গি, আকার ইঙ্গিত ইত্যাদি দ্বারা আমরা অন্যের কথার পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করতে পারি।

এই অমৌখিক যোগাযোগকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা -

ক) অঙ্গসঞ্চালন যোগাযোগ এবং
খ) নীরব যোগাযোগ।

ভিজুয়াল যোগাযোগ কাকে বলে :-

ভিজুয়াল যোগাযোগ একরকম অমৌখিক যোগাযোগ। এ ধরণের যোগাযোগ মানুষ স্বভাবসুলভ করে থাকে। যেমন- চেহারার ভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি, মুচকি হাসি ও ভ্রুকুটি ইত্যাদি।

এ সবই ভিজুয়াল ও অমৌখিক যোগাযোগের একটি কার্যকর মাধ্যম। এ ধরনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমরা খুব একটা চিন্তাভাবনা করে এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করি না, স্বাভাবিক নিয়মে মানুষ এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করে। এ জন্য একে অমৌখিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত করা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিকভাবে এর ব্যবহার না হলে অনেক বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ