নাইট্রোজেন চক্র কাকে বলে?

নাইট্রোজেন চক্র কাকে বলে :-

যে প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন জীবজগতে এবং জীবজগত থেকে নাইট্রোজেন বায়ুমন্ডলে আবর্তিত হয়ে পরিবেশে নাইট্রোজেন সমতা রক্ষা করে তাকে নাইট্রোজেন চক্র বলে।

নাইট্রোজেন চক্র জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রের অন্যতম অঙ্গ। নাইট্রোজেন চক্র এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নাইট্রোজেন বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হয়। এই রূপান্তর জৈব ও শারীরিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

পৃথিবীতে বায়ুমণ্ডলের শতকরা ৭৮.০২ ভাগ নাইট্রোজেন রয়েছে। নাইট্রোজেন অ্যামিনো এসিড। প্রোটিন এবং ডিএনএ হিসেবে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯১৩ সালে প্রথম নাইট্রোজেন চক্র আলোচনা হয়। নাইট্রোজেন চক্র বাস্তুসংস্থান সম্পর্কিত অধ্যয়নে বিশেষ গুরুত্বসহ পাঠ করা হয়। বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই চক্র প্রতিফলিত হয়।

নাইট্রোজেন চক্র নিম্নোক্ত ধাপগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যথা

১. নাইট্রোজেন সংবন্ধন

২. নাইট্রোজেন আত্মীকরণ

৩. অ্যামোনিফিকেশন

৪. নাইট্রিফিকেশন এবং

৫. ডিনাইট্রিফিকেশন।

এগুলো সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হলো -
নাইট্রোজেন চক্র কাকে বলে
১. নাইট্রোজেন সংবন্ধন কাকে বলে :

নাইট্রোজেন গ্যাসকে অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরের যে প্রক্রিয়া তাকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় বন্ধন নাইট্রোজেন গ্যাসকে এমন একটি অবস্থায় আবদ্ধ করা হয়, যার ফলে জীবজগত তা গ্রহণ করতে পারে। নাইট্রোজেন সংবন্ধন দুই প্রকার। যথা ভৌত নাইট্রোজেন সংবন্ধন এবং জৈব নাইট্রোজেন সংবন্ধন।


২. নাইট্রোজেন আত্মীকরণ কাকে বলে :

সবুজ উদ্ভিদ মৃত্তিকা থেকে নাইট্রাইট, নাইট্রেট এ্যামোনিয়া আকারে গ্রহণ করে। এ নাইট্রেট প্রথমে অ্যামোনিয়াতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ দেহে প্রোটিন এবং নিউক্লিক এসিড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যা উদ্ভিদ থেকে নাইট্রোজেন খাদ্যের মাধ্যমে প্রাণিদেহে প্রবেশ করে।

৩. অ্যামোনিফিকেশন কাকে বলে :

যে প্রক্রিয়ায় মাটিতে বসবাসকারী ব্যাকটিরিয়া নাইট্রোজেন যৌগকে অ্যামোনিয়ামে পরিণত করে তাকে অ্যামিনিফিকেশন বলে। এ প্রক্রিয়ায় মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ পচনের সময়ে ব্যাকটিরিয়াগুলো অতিরিক্ত অ্যামোনিয়াকে পরিবেশেমুক্ত করে দেয়।

৪. নাইট্রিফিকেশন কাকে বলে :

নাইট্রিফিকেশন বলতে নাইট্রোজেনের সংযোজনকে বুঝায়। মৃত উদ্ভিদ, প্রাণিদেহ ও অন্যান্য জৈব পদার্থ থেকে নাইট্রোজেন যৌগগুলি বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বিয়োজিত হওয়ার ফলে প্রথমে অ্যামোনিয়া পরে নাইট্রাইট এবং সবশেষে নাইট্রেট যৌগে পরিণত হয়। জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেন মাটিতে ফিরে আসার এই পদ্ধতিকে নাইট্রিফিকেশন বলে।

৫. ডিনাইট্রিফিকেশন কাকে বলে :

মাটির নাইট্রেট যৌগ যে প্রক্রিয়ায় ব্যাকটিরিয়ার দ্বারা রূপান্তরিত হয়ে আবার নাইট্রোজেন গ্যাস হিসেবে বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসা তাকে ডিনাইট্রিফিকেশন বলে।

নাইট্রোজেন চক্র পরিবেশের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। মানবসৃষ্ট কর্মকান্ড দ্বারা এই চক্র ও তার কার্যক্রম প্রভাবিত হয়। বৈশ্বিক তাপ বৃদ্ধি, কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধিতে এটি অবদান রাখে। কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ যা বায়ুমণ্ডলে চাপ সৃষ্টি করে (যেমন- এরোসল, কীটনাশকের ব্যবহার) এমন পদার্থ ব্যবহার, কৃষিতে সারের ব্যবহার ইত্যাদি নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধিতে সহায়ক।

আরও পড়ুন :- বায়োম কাকে বলে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ