জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্র কাকে বলে? জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রের প্রক্রিয়াসমূহ ও বৈশিষ্ট্য?

জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্র কাকে বলে :-

জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্র এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Bio-geo-chemical Cycles। Bio শব্দটির অর্থ জীব, geo শব্দের অর্থ পৃথিবী বা ভূ-ভাগ, chemical অর্থ রাসায়নিক এবং Cycle এর অর্থ চক্র।

সুতরাং জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্র বলতে বায়ুমণ্ডল, মহাসাগর ও পলি রাশির মধ্য দিয়ে রাসায়নিক পদার্থের চক্রাকার সঞ্চালনকে বুঝায়।

বৃহৎ অর্থে বলা যায়, যে, জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্র এমন একটি চক্র যেখানে বারিমণ্ডল, অশ্বমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডল নিয়ে গঠিত বিশাল জগতের মধ্য দিয়ে যাবতীয় রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

এই চক্র অনুযায়ী পৃথিবী হতে জলাশয়ের জল উত্তপ্ত হয়। অতপর বাষ্পীভূত হয়, এরপর ঘনীভূত হয়ে মেঘ হওয়ার পর পুনরায় বৃষ্টিরূপে পৃথিবীতে ফিরে আসে। জীব-ভূ রাসায়নিক এই শব্দটির সাথে ভূ-তাত্ত্বিক, রাসায়নিক ও জীববিজ্ঞানের তাত্ত্বিক উপাদানসমূহ সম্পৃক্ত।

আরও পড়ুন :- বিচ্যূর্ণীভবন কাকে বলে?

জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্র এমনই একটি প্রক্রিয়া যেখানে পৃথিবীর জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হয়। এই চক্রকে কখনো কখনো “পুষ্টি চক্র"ও বলা হয়। কারণ এই চক্রের মাধ্যমে প্রাণি ও উদ্ভিদ পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে থাকে।
জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্র কাকে বলে

জীব-ভূ-রাসায়নিকের বৈশিষ্ট্য :-

জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্র অনুধাবন করতে হলে বর্তমানে বায়ুমণ্ডল সম্পর্কিত বিদ্যা, বাস্তুসংস্থান সম্পর্কিত শাস্ত্র, ভূ-তত্ত্ব, মৃত্তিকা বিজ্ঞান ইত্যাদি পঠন-পাঠনে গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে।

কারণ এই চক্রের মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণি তাদের জীবনধারণের নানা পর্যায়ে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হয়ে বছরের পর বছর বংশ বিস্তার করে।

সুতরাং পৃথিবীতে উদ্ভিদ, প্রাণি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই চক্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রের প্রক্রিয়াসমূহ :-

জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রক্রিয়াসমূহ হলো

১. কার্বন চক্র
২. নাইট্রোজেন চক্র
৩. অক্সিজেন চক্র
৬. জল চক্র
৪. ফসফরাস চক্র
৫. সালফার চক্র এবং
৬. জল চক্র।


১. কার্বন চক্র :

যে প্রক্রিয়ায় কার্বন মৌল কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসরূপে পরিবেশ থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে আবর্তিত হয়ে পরিবেশের মধ্যকার কার্বনের সমতা বজায় রাখে তাকে কার্বন চক্র বলে।

২. নাইট্রোজেন চক্র :

যে প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন জীবজগতে এবং জীবজগত থেকে নাইট্রোজেন বায়ুমন্ডলে আবর্তিত হয়ে পরিবেশে নাইট্রোজেন সমতা রক্ষা করে তাকে নাইট্রোজেন চক্র বলে।

৩. অক্সিজেন চক্র :

যে প্রক্রিয়ায় পরিবেশের অক্সিজেন দহন ও শ্বসনের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সালোক সংশ্লেষণের মাধ্যমে আবার অক্সিজেন তৈরি করে পরিবেশের মধ্যে অক্সিজেনের সমতা রক্ষা করে, সেই চক্রটিকে অক্সিজেন চক্র বলে।

৪. ফসফরাস চক্র :

যে প্রক্রিয়ায় ফসফরাস মৌল পরিবেশ থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে আবর্তিত হয়ে পরিবেশে সমতা বজায় রাখে, তাকে ফসফরাস চক্র বলে।

৫. সালফার চক্র :

যে পদ্ধতিতে পরিবেশ থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে সালফার আবর্তিত হয় এবং পরিবেশে সালফারের সমতা বজায় রাখে, তাকে সালফার চক্র বলে।

৬. জল চক্র :

সাগর, মহাসাগর, নদী, জলাশয় উদ্ভিদ প্রভৃতি থেকে জল বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ঘণীভবনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আবর্তিত হয়ে বারিপাতের মাধ্যমে পুনরায় ফিরে এসে পৃথিবীর জলের ভারসাম্য রক্ষা করে। একে জল চক্র বলে।

আরও পড়ুন :- নাইট্রোজেন চক্র কি?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ