লোকসংস্কৃতি কাকে বলে? লোকসংস্কৃতির উপাদান ও শ্রেনীবিভাগ? লোকসংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য

লোকসংস্কৃতি ও লোকসাহিত্য সাধারণ পরিচয় :-

সংস্কৃতি হল সভ্যতার উৎকর্ষ। শ্যামাবিষয়ক গানে আছে, এমন মানব জমিন রইল পতিত / আবাদ করলে ফলতো সোনা।' এই মানব জমিন কর্ষণ করে তাতে ফলানো উৎকৃষ্ট ফসল-ই হল সংস্কৃতি।

সংস্কৃতি শব্দটির আগে বাংলায় কৃষ্টি শব্দটি প্রচলিত ছিল, কিন্তু তাতে কৃষির গন্ধ পেয়ে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ-ই শব্দটিকে পাল্টানোর পক্ষপাতী ছিলেন

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর এক মারাঠী বন্ধুর মাধ্যমে মারাঠী শব্দ ভাণ্ডার থেকে সংস্কৃতি শব্দটি বাংলায় আনেন এবং রবীন্দ্রনাথ সেটিকে সোৎসাহে গ্রহণ করে।


ইংরাজি Culture শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে সংস্কৃতি শব্দটি ব্যবহাত হলেও, Culture-এর নেপথ্যে আছে লাতিন Cultura শব্দটি, যার ভিত্তিভূমি লাতিন COL ধাতু। অর্থ কৃষ - যার অর্থ চাষ করা, যত্ন করা, পূজা করা।

কৃষ্টি কিংবা সংস্কৃতি – উভয় ক্ষেত্রেই 'কৃষ' ধাতুর প্রভাব থেকে গেছে- তাই মানব জমিনে আবাদ করে ফলানো সোনাই বোধ করি কৃষ্টি কিংবা সংস্কৃতি।
লোকসংস্কৃতি কাকে বলে

সংস্কৃতির সাধারণত দুটি ধারা- - একটি নাগরিক সংস্কৃতি বা শিষ্ট সংস্কৃতি, আর অন্যটি গ্রামীণ সংস্কৃতি বা লোকায়ত সংস্কৃতি বা লোকসংস্কৃতি। নাগরিক সংস্কৃতি আমাদের আলোচনার বিষয় নয়। আমাদের উদ্দেশ্য লোকসংস্কৃতি।

১৮৪৬ খ্রীষ্টাব্দে ইংল্যান্ডের জনৈক পণ্ডিত উইলিয়াম থামস The Athenaeus পত্রিকায় লিখিত একটি পত্রে সর্বপ্রথম 'Folk Lore' শব্দটি ব্যবহার করেন। শব্দটির সংজ্ঞা ও তাৎপর্য নিয়ে পণ্ডিতদের বিতর্কের অন্ত নেই। অন্ত নেই মতবিরোধের এর বাংলা প্রতিশব্দটি নিয়ে।

Folk Lore শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে একাধিক শব্দ পাওয়া যায় – লোকসংস্কৃতি, লোককৃষ্টি, লোককলা, লোকমান, লোকবার্তা, লোকচারণা, লোকায়ন, লোকশ্রুতি, লোকবিদ্যা, লোকতত্ত্ব ইত্যাদি।

আরও পড়ুন :- লোকনাট্য কি?

এই প্রতিশব্দগুলোর তুলনায় জনপ্রিয় প্রতিশব্দ হিসেবে লোকসংস্কৃতি-ই বহুল ব্যবহৃত এবং আমাদের আলোচনায় এই শব্দটিই ব্যবহহৃত হবে। আসলে Folk Lore-এর সহজ ইংরাজি প্রতিশব্দ হিসেবে Folk Culture কেউ কেউ ব্যবহার করেন। তা থেকে লোকসংস্কৃতি শব্দটি আসা খুবই সহজ। তবে ইংরাজি Lore এর সঙ্গে সংস্কৃতি শব্দের বিষয়গত সাদৃশ্যই লোকসংস্কৃতি শব্দটির জনপ্রিয়তার কারণ।

লোকসংস্কৃতি কি বা কাকে বলে :-

অধ্যাপক ড. তুষার চট্টোপাধ্যায় তাঁর “লোক সংস্কৃতির তত্ত্বরূপ ও স্বরূপ সন্ধান" গ্রন্থে লোকসংস্কৃতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে

“লোকসংস্কৃতি লোকায়ত সংহত সমাজের সমষ্টিগত প্রয়াসের জীবনচর্যাঁ ও মানসচর্চার সামগ্রিক কৃতি; যা মূলত তথাকথিত আদিম সমাজে অমার্জিত সাংস্কৃতিক প্রয়াস ও অগ্রগতি সমাজের সুমার্জিত বিদগ্ধ সংস্কৃতি অপেক্ষা কমবেশী স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র শিক্ষাগত অতিপ্রযত্ন নিরপেক্ষ প্রধানত: ঐতিহ্যাশ্রয়ী বাকভাষা অঙ্গভাষা, কারুভাষা চারুকলা, পোষাক পরিচ্ছেদ, রান্নাবান্না, সুচ্ছন্দ, ক্রীড়া অভিনয়, ঔষধ, তুকতাক, প্রথা উৎসব, বিশ্বাস-সংক্রান্ত, ধর্ম-অনুষ্ঠান, মেলাপার্বন ইত্যাদিতে অভিব্যক্ত এবং ক্ষেত্রানুসারে সৃষ্টিশীল সক্রিয়তার মূর্ত বা বিস্মৃতিতে অবলুপ্ত হলেও; সামগ্রিকভাবে সামাজিক দ্বন্দ্বপাতের সচলতায় আদিম সমাজের হারানো অতীতে মূল প্রোথিত করে বিবর্তনের ধারায় চলমান কালের সত্যে উদ্ভাসিত হয়ে আগামী দিনের বাতাবরনে সম্প্রসারিত।"

ড: মানস মজুমদার লোকসংস্কৃতির আলোচনায় বলেছে

"লোক সংস্কৃতির আলোচনায় 'লোক' বলতে কোন একজন মানুষকে বোঝায় না। বোঝায় এমন এক দল মানুষকে যারা সংহত একটি সমাজের বাসিন্দা। অর্থাৎ নির্দিষ্ট একটি একটি ভু-খন্ডে তারা বসবাস করে, তাদের আর্থিক কাঠামো একই রকম, জন্ম থেকে মৃত্যু এবং বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকলে একই ধরনের বিশ্বাস-সংস্কার, আচার-আচরণ, প্রথা-পদ্ধতি, উৎসব অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।"

লোক সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য :-

  • লোক সংস্কৃতির বিকাশের ক্ষেত্রে পল্লীজীবন বা গ্রামীন জীবন কথার চিত্রে ধরা পড়ে। কৃষিসমাজই এর প্রকৃষ্ট ক্ষেত্র।
  • সংহত বা গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজ এর অবলম্বন।
  • লোকসংস্কৃতির স্রষ্টা সাধারণ সমষ্টি বা গোষ্ঠী বন্ধ মানুষ।
  • লোকসংস্কৃতির সৃষ্টি সাহিত্য মূলত নিরক্ষর মানুষের সৃষ্টি। এই সাহিত্য অলিখিত।
  • লোক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোনো রচয়িতার বা স্রষ্ট নাম পাওয়া যায় না।
  • লোকসংস্কৃতি মাধ্যম মৌখিক।
  • লোকসংস্কৃতি মূলত স্মৃতি ও প্রতি নির্ভর।
  • লোকসংস্কৃতি প্রাণের তাগিদে স্বতস্ফূর্ত রচনা।
  • সরল, অকৃত্রিম ও আটপৌরে সৃষ্টি এটি।
  • লোক সংস্কৃত মূলত ঐতিহ্য নির্ভর।
  • লোক সংস্কৃতি বিবর্তনধর্মী এবং নমনীয়।

শিষ্ট সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য :-

  • শিষ্ট সংস্কৃতি শিক্ষিত, শিষ্ট সমাজের ক্ষেত্র।
  • শ্লথ সংহত সমাজে এর বিকাশ লক্ষনীয়।
  • একক বা ব্যাক্তিপ্রতিভা উচ্চ সংস্কৃতির স্রষ্টা।
  • এই সংস্কৃতির রূপটি হয় লিখি।
  • শিষ্ট সংস্কৃতির রচয়িতা ও শ্রষ্ঠার নাম পাওয়া যায়।
  • কোনো নির্দিষ্ট রচনা, পুঁথি, পুস্তক এর মধ্য দিয়ে এই সংস্কৃতির প্রকাশ পরিলক্ষিত হয়‌।
  • ‌‌উচ্চ সংস্কৃতির প্রকাশ লিপি বা মুদ্রন নির্ভর।
  • শিষ্ট সংস্কৃতি প্রযত্ন নির্ভর সৃষ্টি।
  • শিষ্ট সংস্কৃতি মূলত বৈদগ্ধময় রচনা।
  • উচ্চ সংস্কৃতি চলমান সমাজ ও জীবন নির্ভর বলেই এই সংস্কৃতির সর্বদা পরিবর্তনশীল।

লোকসংস্কৃতির শ্রেনীবিভাগ বা উপাদান :-

যে কোন সমাজ সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান পরিচয় হল- শিল্প-ভাস্কর্য সাহিত্য। একথা বললে অত্যুক্তি হয় না যে সাহিত্যের মাধ্যমেই সংস্কৃতির স্বরূপ উদ্ঘাটিত হয়ে থাকে। সেখানে উচ্চ সংস্কৃতির সঙ্গে নিন্ম সংস্কৃতির এক সুস্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। তাই অনেক সময় লক্ষ্য করা যায় যে, একটা অন্ত্যজ মানুষের জীবন যাত্রার সাথে লোকসংস্কৃতির উপাদান গুলি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সেই লোক সংস্কৃতির উপাদান গুলিকে আমরা মোটামুটি নিম্নে আলোচনা করব-

আরও পড়ুন :- লোকসংগীত কি?

বাককেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতি :-

লোক সংস্কৃতির এই ধারাটি মৌখিক এবং ঐতিহ্য নির্ভর। যা দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। লোক মানুষেরা গোষ্ঠীবদ্ধ ভাবে তথ্য সমাজবদ্ধ ভাবে বসবাস করে, সমাজে বসবাস করা কালিন তারা দৈনন্দিন জীবনে কাজের মধ্য দিয়ে যে অভিজ্ঞতা লাভ করে সেই অভিজ্ঞতার বাস্তব এবং সর্ব্বৈ সত্য রূপ বাক্‌ময় হয়ে তাদের কর্ম পদ্ধতির মধ্য দিয়ে বাইরে প্রকাশিত হয়।

লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী মৌখিক সত্তাটি ধরা পড়ে এই বাককেন্দ্রিক বা কথাকেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতির মধ্যে। সাধারণত, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, লোককথা, লোকগীতি, মন্ত্র, গীতিকা, লোকনাট্যের সংলাপ অংশ এই শাখার অন্তর্গত।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় -
"ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়া
বর্গী এলো দে
বুলবুলিতে ধান খেয়ে
খাজনা দেবো কিসে"

দোলনায় ঘুমপাড়াতে গিয়ে মায়ের মুখের এই যে ছড়া, কিংবা, একটুখানি মামা, গা বোঝাই জামা' (পেঁয়াজ) ধাঁধাটি অথবা 'জন জামাই ভাগ্না, তিন নয় আপনা'– প্রবাদটি এই বাককেন্দ্রিক শ্রেণীর উদাহরণ।

বস্তুকেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতি :-

লোক সমাজের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত উপাদানকেই বস্তুকেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতির উপাদানের পর্যায়ভুক্ত করা হয়ে থাকে। সেখানে বাড়ি ঘর, খাদ্য, পানীয়, পোশাক পরিচ্ছদ, কুবিসরঞ্জাম, শিকার দ্রব্য আসবাবপত্র, বাদ্যযন্ত্র, যানবাহন প্রভৃতির পরিচয় উঠে আসে।

একটি বিশেষ অঞ্চলের মানুষেরা একবিশেষ ধরনের উপাদানের মাধ্যমে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়ে থাকে। পাহাড়ি অঞ্চল আর সমতল ভূমির পার্থক্য ও ব্যবহৃত দ্রব্যাদির দ্বারা সম্পৃষ্ট হয়ে ওঠে বাংলার লোক সমাজে খাদ্য পানীয়ের মধ্যে রয়েছে ভাত, ডাল, রুটি, চিড়ে, মুড়ি, মই, নাড়, পিঠে, দুধ, ঘোল, খেজুর, তালের রস, খেজুরের গুড় ইত্যাদি। অঞ্চল ভেদে এই লোক মানুষের খাদ্যেরও পরিবর্তন ঘটে।

অঙ্গভঙ্গিকেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতি :-

অঙ্গ-ভঙ্গি লোকসমাজের এক বিশেষ Tradition, লোক সমাজের মানুষজন এক বিশেষ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাদের বক্তব্য বিষয়ক উপস্থাপিত করে থাকেন। বলা যায় শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এর এক বিশেষ ভঙ্গির মধ্য দিয়ে তাদের বক্তব্য বিষয়কে ফুটিয়ে তোলেন।

অঙ্গভঙ্গি কেন্দ্রিক লোক সংস্কৃতি বংশ পরম্পরায় প্রবাহমান, যা সময়ের প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে উন্নত রূপে পুরানো Tradition এর ছায়াপাত ঘটে। লোক সমাজের জীবন চিত্রে তাই এই সংস্কৃতির প্রভাব অবশ্য স্বীকার্য। রাক্ষস নৃত্য, বুড়ো বুড়ি নৃত্য, বাউল ও ফরিরি নৃত্য, গাজন নৃত্য ও কাঠি নৃত্য রণপা প্রভৃতিকে অঙ্গ ভঙ্গি কেন্দ্রিক লোক সংস্কৃতির পর্যায়ভুক্ত করা হয়ে থাকে।

বিশ্বাস-সংস্কার বা আচার-অনুষ্ঠান কেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতি :-

লোকসংস্কৃতির অনেক উপাদানের সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ বিশেষ আচার-ব্যবহার, বিশ্বাস-সংস্কার ইত্যাদি থেকে। এই পর্যায়ের মধ্যে পড়ে লোকাচার, লোকসংস্কার, লোকউৎসব, লোকচিকিৎসা, লোকবিজ্ঞান, লোকমেলা, লোকপার্বণ, লোকপূজা, গাছে গাছে বিয়ে দেওয়া ইত্যাদি।

আরও পড়ুন :- অনুবাদ কি?

মূলত অনুকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বংশ বা লোকপরম্পরায় মৌখিক রীতিতে লোকসংস্কৃতির এই শাখা বাহিত হয়। মানসিক ব্যাপার জড়িত থাকার ফলে এর প্রভাব সমাজের খুব গভীরে। বিজ্ঞানের ব্যাপক বিস্তারও লোকসংস্কৃতির এই ধারাকে অবলুপ্ত করতে পারে না।

খেলাধূলাকেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতি :-

এই শাখাটি একটি মিশ্রশাখা। এর মধ্যে একই সঙ্গে অঙ্গভঙ্গি কেন্দ্রিক ও বাক্‌কেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতিরও যেমন যোগ আছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে আছে বিশ্বাস-সংস্কারের দিকটিও।

সাধারণত নিরক্ষর জনসাধারণ নিজেদের শরীর চর্চার জন্য এবং আনন্দ বিধানের জন্য বহু খেলাধূলা, ব্যায়াম ও প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করেছে। এই খেলাধূলাগুলোকে এককথায় লোকক্রীড়া বলে। এই লোকক্রীড়াগুলোই এই পর্যায়ের মুখ্য উপাদান।

উদাহরণস্বরূপ- হা-ডু-ডু, ডাংগুলি, নোন্তা, বউ বাসন্তি, কানামাছি, কুমীর কুমীর, বাঘবন্দী, নৌকাবাইচ, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, দাড়িয়াবান্ধা, খোটান ইত্যাদি।

অঙ্কন ও লিখনকেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতি :-

লোকসংস্কৃতি যদিও মূলত অলিখিত বা মৌখিক। তবু এর একটা দিক অঙ্কন ও লিখনকেন্দ্রিক। লোক মানুষের জীবন চিত্রে লিখন বা অঙ্কন কেন্দ্রিক লোক সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম।

লিখন অঙ্কন কেন্দ্রিক লোক সংস্কৃতির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আল্পনা, দেওয়াল চিত্র, মাটির ঘট বা সরার উপর অঙ্কিত, পিঁড়ির উপর অঙ্কিত মুশারী বা আসনে অঙ্কিত চিত্র - এই পর্যায় ভুক্ত।

বিশেষ অনুষ্ঠান বা উৎসবে লোকমানুষেরা তাদের আঙিনায় আন্ত্বনা দিয়ে সজ্জিত করে তোলে। তাছাড়া ঘরের মাটির দেওয়ালে বিভিন্ন দেব দেবীর মূর্তি, গাছপালা, পশুপাখী প্রভৃতির চিত্র অঙ্কণ করে থাকে।

বলা যায় এগুলি লোক মানুষের জীবনের অনুসঙ্গে এক ভিন্ন সংস্কৃতির স্বাক্ষর বহন করে। নিন্মতর সমাজের মানুষেরা নবান্ন উৎসবের সময় দেওয়ালের গায়ে বা বাড়ির উঠানে চালের গুঁড়া দিয়ে আল্পনা আঁকে। রাধাকৃষ্ণর যুগলমূর্তি ও তারা দেওয়ার গায়ে এঁকে রাখে। তাছাড়া ছোট ছোট কার্পেটের গায়ে নিজের অব্যক্ত কামনার কথা অঙ্কন করে দেওয়ালের মেখে রাখে। লোক সমাজের জীবন চিত্রে যা যথাযথ ভাবে মানিয়ে যায়। এক কথায় বলা যায় এই সমস্ত উপাদান ছাড়া লোক সমাজের জীবন চিত্র যেন শ্রীহীন হয়ে পড়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ