প্রশিক্ষণ কী? প্রশিক্ষণের গুরুত্ব লিখ?

প্রশিক্ষণ নতুন কিংবা পুরনো সব কর্মীকেই দেওয়া যায়। তবে নতুন কর্মীদের জন্যই প্রশিক্ষণ সর্বাধিক প্রয়োজন। কারণ তারা বিনা অভিজ্ঞতায় বা স্বল্প অভিজ্ঞতা নিয়েই অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো হয়। প্রশ্ন ওঠতে পারে, প্রশিক্ষণ কী? 

প্রশিক্ষণ কাকে বলে :- 

প্রশিক্ষণ হলো নতুন বা পুরনো কর্মীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতার সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া।

মাইক্যাল জে ভুসিয়াস (Michael J. Jucius) বলেন প্রশিক্ষণ হলো যেকোন প্রক্রিয়া, যা দ্বারা কর্মীর নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন প্রবনতা, দক্ষতা এবং সামর্থ্য বৃদ্ধি পায়।

ম্যাথস এবং জ্যাকসন Mathis and Jackson এর মতে প্রশিক্ষণ হলো শিক্ষন প্রতিষ্ঠা যা দ্বারা লক্ষ অর্জনের সহায়ক দক্ষতা, ধারণা, জাবনতা এবং স্থান বৃদ্ধি পায়।

গ্রে ডেসলার Gary Dessler এর মতে প্রশিক্ষণ সেই পদ্ধতিকেই নির্দেশ করে যা দ্বারা নতুন এবং বর্তমান কর্মিরা তাদের কার্য সম্পাদনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রদান করে।

আর, ডব্লিউ, গ্রিফিন R. W. Griffin গত বা কারিগরি কর্মীদের যে কাজের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা সে কাজটি কিরুপে করবে এ সংক্রান্ত শিক্ষাই প্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষণের গুরুত্ব :-

মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বর্তমান যুগ প্রতিযোগীতার যুগ। এই যুগের উৎপাদন পদ্ধতি, কার্য প্রনালী জটিল প্রকৃতির। এই জটিল প্রকৃতির কার্য প্রণালীকে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার নতুন ও পুরাতন কর্মিদের কর্ম দক্ষতা অভিজ্ঞতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলোঃ

দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি :-

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন এবং পুরাতন কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি করা যায়। ফলে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে কাজ করার ক্ষেত্রে তাদরে কাজ সম্পাদন কোন সমস্যা হয় না।

কর্ম সন্তুষ্টি বৃদ্ধি :-

প্রশিক্ষণের দ্বারা কর্মীরা কার্য সম্পর্কে দক্ষ হয়। কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ, উৎসাহ, আন্তরিকতা ও মনোবল বৃদ্ধি পায়। এতে করে তাদের কার্য সম্পত্তির পরিমাণ ও মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
প্রশিক্ষণ কী

সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার :-

আমাদের দেশে প্রধান সমস্যা সম্পদের অভাব নয়, সম্পদের সদ্ব্যবহারে ব্যর্থতা, প্রশিক্ষণ কর্মীদের দক্ষ করে তোলে। ফলে প্রতিষ্ঠিত সকল সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

মানবীয় সম্পর্কের উন্নয়ন :-

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীরা প্রতিটি কাজ সম্পর্কে, অপরপর কর্মিদের দক্ষতা, যোগতা, অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানের মানবীয় সম্পর্কের উন্নয়ন হয়।

সম্পদ গঠন :-

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কার্যের প্রকৃত ও ধরণ, পদ্ধতি ও কৌশল, প্রকৃত ও ধরণ ইত্যাদি সম্পর্কে বাস্তব স্থান বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়। ফলে প্রতিটি কর্মীই দক্ষ হয়ে উঠে এবং সম্পদে পরিণত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানে এবং সামগ্রিকভাবে দেশে দক্ষ মানব সম্পদ গঠন সহজ হয়।

দায়িত্ববোধ সৃষ্টি :-

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের তাদের কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের সম্পর্কে সচেতন করে তোলা যায়। দক্ষতা উপযুক্ততা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতি কাজের প্রতি কর্মীদের দায়িত্ববোধের সৃষ্টি হয়।

সম্পদ ও যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ :-

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের মানবীয় ও বস্তুগত সম্পদের ব্যবহার ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। ফলে মানবীয় এবং বস্তুগত সকল সম্পদের সংরক্ষণ সহস্র ও সুন্দর হয়।

প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য :-

মানব সম্পদ প্রতিষ্ঠানের প্রান এবং প্রধান চালিকা শক্তি। মানব সম্পদ দ্বারা প্রতিষ্ঠানের আরোপের সম্পদ সুষ্ঠু পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাই একদিকে তাকে প্রতিষ্ঠানের নীতি, কার্য-পদ্ধতি, উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিচিত হতে হয়, অপর দিকে পেশাগত দক্ষতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য থাকতে হয়। প্রশিক্ষণের এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। যার মাধ্যমে কর্মীর সকল প্রয়োজন পরিপূরণ করে তাকে সর্বোচ্চ মাত্রায় সাফল্যের সুযোগ করে দেয়। তাই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যকে আমরা নিরূপে আলোচনা করতে পারি।

নতুন কর্মী ও প্রতিষ্ঠান পরিচিতি :-

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত নতুন কর্মীদের কার্যের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে পরিচিত করা হয় এবং সাথে সাথে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হয়।

আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন :-

প্রশিক্ষণের ফলে স্বকীয় কার্য দক্ষতার সাথে সম্পাদন বিষয়ে কর্মীর মনে আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। সে স্বেচ্ছায় স্বকীয় উদ্যোগে স্বকীয় কার্য দক্ষতার সাথে সম্পদের চেষ্টা করে। এতে তত্ত্ববধান এর প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পায়।

মানবিক সম্পর্ক উন্নয়ন :-

প্রশিক্ষণ কর্মীদের মধ্যে মানবিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে শিক্ষা দেয়া প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কিরুপে দলগতভাবে কাজ করতে হবে, থাকতে হবে, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে। ফলে সামগ্রিকভাবে কর্মীদের মাসবিক সম্পর্কের উন্নয়ন হয়।

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি :-

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কার্যসম্পাদন যোগ্যতা, দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, কার্যের গুন ও মান বৃদ্ধি পায়। ফল স্বরুপ কর্মিদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

প্রতিষ্ঠানের নীতি পদ্ধতি জ্ঞানদান :-

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের আদর্শ-দর্শন নীতি-পদ্ধতি, কার্যধারা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে জ্ঞান দান করা হয়। ফলে তারা এসকল বিষয়ের প্রতি সর্বদা যত্নবান থাকে।

ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞানদান :-

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা প্রকৃত ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। ফলে কর্মী-ব্যবস্থাপনার মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পায় এবং সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।

প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতা সম্পর্কে জ্ঞানদান :-

বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায়ে ক্রেতাই হলো রাজা। তাই ক্রেতার সন্তুষ্টির উপরই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে। এজন্য ক্রেতাদের সাথে ভালো সম্পর্ক সৃষ্টি, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এটি সহজেই করা যায়। ফলে কর্মীদের সাথে, প্রতিষ্ঠানের সাথে ক্রেতাদের সম্পর্ক সুমধুর হয়।

আচরণ ও মনোভাবের উন্নয়ন :-

কর্মীরা যেন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীন, পরিবেশ, পরিস্থিতির আলোকে নিজেদের তৈরি করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যদের সাথে আচার-আচরণ করতে পারেন। সহযোগীতামূলক মনোভাব প্রকাশ করতে পারেন এজন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ফলে কর্মীদের মনোভাব ও মানসিকতার পরিবর্তন হয়।

দক্ষতা বৃদ্ধি :-

কর্মীদের কার্য সম্পাদন জ্ঞান, দক্ষতা, কৌশল বৃদ্ধির জন্যই মূলত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশিক্ষণের ফলে কর্মি আরো ও পারদর্শী হয়ে উঠে।

দুর্ঘটনা রোধ :-

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কার্যসম্পাদন সম্পর্কে আধুনিক ও বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দেয়া হয়। ফলে যে কার্য সম্পাদন সম্পর্কে দক্ষ হয় এবং দুর্ঘটনা সম্পর্কে সতর্ক ও সজাগ হয়। ফলে কার্য সম্পাদন সম্পর্কিত দুর্ঘটনা ও ঝুঁকির মাত্রা হ্রাস পায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ