পদ কাকে বলে? পদ কয় প্রকার ও কি কি উদাহরণ দাও? পদের শ্রেনীবিভাগ

প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে পদ ও পদ-সংশিষ্ট আলোচনা তথা বর্ণনার ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

পদ কাকে বলে? (pod kake bole) এককথায় বললে, বিভক্তিযুক্ত ধাতু বা শব্দকে পদ বলে।

ভাষায় কেবল শব্দ ও ধাতু ব্যবহৃত হয় না। ভাষায় ব্যবহৃত হওয়ার জন্যে শব্দ ও ধাতুর সঙ্গে বিভক্তির যোগ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কেননা, বাক্যে অর্থাৎ ভাষায় প্রত্যেকটি শব্দ ব্যবহারের একটি নির্দিষ্টস্থান আছে। বাক্যের মধ্যে যেখানে যে শব্দের ব্যবহার আবশ্যক সেখানে সে শব্দের প্রয়োগ না হলে কথার অর্থ বা বাক্যের অর্থ কেউ বুঝতে পারে না। যেমন -

মানুষ বাঘ মারে

এই বাক্যটির প্রথম শব্দ মানুষ, দ্বিতীয় শব্দ বাঘ এবং মারে শব্দ তৃতীয় স্থানে অবস্থিত। এর প্রথম দুটি শব্দের স্থান পরিবর্তন করে দিলে বাক্যটি দাঁড়ায়- বাঘ "মানুষ মারে" (Tigers kill man), এতে বক্তার বক্তব্য একেবারেই আলাদা হয়ে যায়। 

কাজেই, বাক্যের শব্দ বসানোর স্থান নির্ণয় করার জন্য শব্দের সঙ্গে কতগুলো চিহ্ন বা বিভক্তি (যেমন- শব্দ বিভক্তি, ক্রিয়া বিভক্তি) যোগ করতে হয়। বাক্যে ব্যবহৃত এরকম অবস্থান পরিচায়ক চিহ্নযুক্ত (অর্থাৎ বিভক্তিযুক্ত) শব্দের নাম পদ।
পদ কাকে বলে? উদাহরণ দাও? পদের শ্রেনীবিভাগ

এখন প্রশ্ন হলো পদ কাকে বলে তা আলোচনা করা।

পদ কাকে বলে বা কি :-

প্রথাগত বাংলা ব্যাকরণ অনুসরণে বলা হয় যে, অর্থবোধক বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি দিয়ে গঠিত কোনো শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হলে তাকেই পদ বলে।

অথবা আমরা বলতে পারি, যে শব্দ বা ধাতু বিভক্তি যুক্ত হয়ে বাক্যে প্রয়োগ করবার উপযোগী হয় তাই পদ ।

আরো বিস্তারিত ভাবে পদ কাকে বলে তা বললে, বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দই অপর কোনো বর্ণ বা বর্ণসমষ্টির সাথে যুক্ত হয়ে রূপান্তর লাভ করে পদে। শব্দের সাথে এরূপ বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যোগ হলে একে বলা হয় বিভক্তি। বিভক্তি যুক্ত শব্দই আসলে পদ।

বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি শব্দই এক একটি পদ (Parts of speech)। সহজভাবে বলা যায়, বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে।

পদের উদাহরণ দাও :-

দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা মানুষের চিরন্তন কল্পনার রাজ্য চাঁদের দেশে পৌঁছেছেন এবং মঙ্গলগ্রহেও যাওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত হচ্ছেন। উপর্যুক্ত বাক্যটিতে 'রা' (অভিযাত্রী+রা), 'এর' (মানুষ+এর), 'র' (কল্পনা+র), 'এ' (মঙ্গলগ্রহ+এ) প্রভৃতি চিহ্নগুলোকে বিভক্তি বলা হয়। আর বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি বিভক্তিযুক্ত শব্দ মাত্রই এক একটি পদ।

পদ প্রকরণ কাকে বলে :-

ব্যাকরণের যে অংশ শব্দ ও শব্দের গঠন, শব্দের শ্রেণী বিভাগ, পদ, পদের পরিচয়, প্রত্যয়, বচন, শব্দরূপ কারক, সমাস, ক্রিয়া, ক্রিয়ার কাল, শব্দের ও পদের ব্যুৎপত্তি আলোচনা করে তাকে পদ প্রকরণ বলে।

পদ কয় প্রকার ও কি কি :-

পদের প্রাথমিক পরিচয় দিতে গিয়ে সাধারণত বলা হয় যে, পদ প্রধানত দুই প্রকার যথা- 
  1. নামপদ ও 
  2. ক্রিয়াপদ।

নাম পদ কাকে বলে :-

শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ গঠিত হয় তাকে নাম পদ বলা হয়।

নাম পদ কয় প্রকার :-

নাম পদ চার প্রকার যথা -
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়।

নাম পদের কিছু বৈশিষ্ট্য:

১. নাম পদ হলো একটি বা একাধিক শব্দের সঙ্গে কোন একটি বিভক্তির যোগফল। যেমন: বাড়ি, সুন্দর বাগান, দ্রুতগামী গাড়ি ইত্যাদি।

২. নাম পদ বিভিন্ন কারক ব্যবহার করে বাক্যের বিভিন্ন অংশে বসে। যেমন: আমি বাড়িতে গেলাম, বাগান খুব সুন্দর, দ্রুতগামী গাড়ির ঝোলানো শব্দ শোনা গেল ইত্যাদি।

৩. নাম পদ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর হিসেবেও বসে। যেমন: তুমি কোথায় গেলে? বাড়িতে গেলাম। এটা কি? এটা একটি দ্রুতগামী গাড়ি।

৪. নাম পদ বিবৃতির বিষয় বস্তু বা মূল পদ নির্দেশ করে। এজন্য বিবৃতির মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে।

৫. নাম পদ সাধারণত কোন ক্রিয়া বা অবস্থা নির্দেশ করে না, কিন্তু ক্রিয়াপদ ও বিশেষণপদের সাহায্যে তার ক্রিয়া বা অবস্থা ব্যক্ত করা হয়।

এইভাবে নামপদ শব্দ বা শব্দগুচ্ছের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যেরূপ পদবিন্যাস হয় তাকে নামপদ বলে। এর অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং বাক্য গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ক্রিয়াপদ কাকে বলে :-

বিভক্তি যুক্ত ক্রিয়ার মূলকে ক্রিয়াপদ বলা হয়। অর্থাৎ যে পদ দ্বারা কোন কাজ করা, ঘটা , সম্পন্ন হওয়া ইত্যাদি বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে।

ক্রিয়াপদ কত প্রকার :-

ক্রিয়াপদ দুই প্রকার। যথাঃ-
  1. সমাপিকা ক্রিয়া ।
  2. অসমাপিকা ক্রিয়া।

ক্রিয়াপদের কিছু বৈশিষ্ট্য:

১. ক্রিয়াপদের মূলক হলো কোনো ক্রিয়া। যেমন: চলা, খেলা, শোনা, দেখা ইত্যাদি।

২. ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিভিন্ন বিভক্তি যুক্ত থাকে যার মাধ্যমে সেগুলো বাক্যের বিভিন্ন অংশে বসে। যেমন: আমি বাসায় যাচ্ছি, সে বইটি পড়ছে, আমরা খেলা দেখছিলাম ইত্যাদি।

৩. ক্রিয়াপদ বাক্যের ক্রিয়া অংশ নির্দেশ করে। বাক্যে যেটি ঘটনা ঘটছে বা যা কিছু করা হচ্ছে তার প্রতিনিধিত্ব ক্রিয়াপদই করে।

৪. ক্রিয়াপদ সর্বনাম, সমনাম, নামপদ, বিশেষণ, ক্রিয়াবিশেষক বা অব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রিয়াকারক, ক্রিয়াপ্রত্যয়, ক্রিয়ারূপ ইত্যাদি নির্মাণ করে।

৫. ক্রিয়াপদ ব্যক্তি, সংখ্যা, লিঙ্গ, পুরুষ, কাল, অনুকূল ইত্যাদি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

এভাবে বিভক্তি যুক্ত ক্রিয়ার মূলকে ক্রিয়াপদ বলা হয় যার অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বাক্য গঠন ও তার বিবর্তনে ক্রিয়াপদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় বিভক্তিযুক্ত শব্দকে নামপদ এবং বিভক্তি যুক্ত ক্রিয়ার মূলকে ক্রিয়াপদ বলে। এদের আবার নানা ভাগ রয়েছে। এখন এই শ্রেনীবিভাগ গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো -

বিশেষ্য পদ কাকে বলে :-

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে। যেমন - শ্যামল, গোরু, বায়ু, সভা, দয়া, শমন, হিমালয় প্রভৃতি।

বিস্তারিত জানুন :- বিশেষ্য পদ সম্পর্কে।

বিশেষ্য পদের শ্রেণিবিভাগ :-

১ - সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য পদ - কলকাতা, সুভাষ, নজরুল, গঙ্গা, বাইবেল, রামায়ণ।

২ - বস্তুবাচক বিশেষ্য পদ- মাটি, কাগজ, জল, দুধ, চিনি, সোনা, রূপা।

৩ - জাতিবাচক বিশেষ্য পদ - বাঙালি, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান।

৪ - সমষ্টিবাচক বিশেষ্য পদ - সভা, জনতা, সমিতি, বাহিনী, দল।

৫ - গুণবাচক বিশেষ্য পদ - সততা, সাধুতা, মহত্ব, দয়া, শৈশব।

৬ - ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য পদ - দর্শন, ভোজন, শয়ন, গমন।

বিশেষ্য পদের বৈশিষ্ট্য :-

বিশেষ্য পদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

১. বিশেষ্য পদ বিশেষণ বা সর্বনামের বিষয়ে বলা হয়।

২. এটি বাক্যে বিশেষণ ও সর্বনামের বিষয় বস্তু নির্ধারণ করে।

৩. বাক্যের বিভিন্ন অংশে বিশেষ্য পদ বসতে পারে।

৪. এর সাধারণত কোন নিজস্ব অর্থ থাকে না।

৫. বাক্যের অর্থগত পূর্ণতার জন্য এটি প্রয়োজনীয়।

বিশেষণ পদ কাকে বলে :-

কোনো পদের গুণ, পরিমাণ, অবস্থা, সংজ্ঞা, ধর্ম ইত্যাদি বোঝানোর জন্য যে শব্দ হয় তাকেই বিশেষণ পদ বলে।

বিস্তারিত জানুন :- বিশেষণ পদ সম্পর্কে

বিশেষণ পদ কয় প্রকার ও কি কি :-

বিশেষণ পদকে পাঁচভাগে ভাগ করা যায়। যেমন -

১ - বিশেষ্যের বিশেষণ - অনেক, প্রচুর, ভালো, মন্দ প্রভৃতি।

২ - সর্বনামের বিশেষণ - সে খুব চালাক। তিনি বড়ো হত।

৩ - বিশেষণের বিশেষণ - খুব গরম, খুব ঠান্ডা, বড়ো ভালো।

৪ - অব্যয়ের বিশেষণ - ঠিক ওপরে, শতাধিক, শত ধিক, ঠিক নীচে।

৫ - ক্রিয়ার বিশেষণ - তাড়াতাড়ি দ্রুত হাঁটে, আমরা এখন খেলব।

বিভিন্ন বিশেষণ পদের সংজ্ঞা :-

১ - বিশেষ্যের বিশেষণ :

যে পদ বিশেষ্য পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, প্রভৃতি উপস্থিত করে তাকে বিশেষ্যের বিশেষণ বলে।

যেমন - মেঘলা আকাশ, বিদ্বান মানুষ, সাতদিন পরে সেচ্ছ অসুস্থ মানুষ, অনেক লোক, ভালো ছাত্রা

২ - সর্বনামের বিশেষণ :

যে বিশেষণ পদ কোনো সর্বনাম পদের গুণ, প্রকৃতি প্রভৃতি নির্ধারণ করে, তাকে বলে সর্বনামের বিশেষণ পদ ।

যেমন - বোকা তুমি, তাই ওদের কথা বিশ্বাস করলে। মূর্খ তুই, এ বছর কী বুঝবি।

৩ - বিশেষণের বিশেষণ :

যে বিশেষণ পদ অন্য একটি বিশেষণ পদের গুণ বা অবস্থা উল্লেখ করে তাকে বিশেষণের বিশেষণ বলে।

যেমন - খুব গরম দুধ। নিতান্ত ভালো মানুষ। অভি বড়ো নিম্নরে, একথা বলতে পারবে না।

৪ - অব্যয়ের বিশেষণ :

যে পদ কোনো অব্যয় পদের গুণ, অবস্থা, সংখ্যা ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।

যেমন - শত ধিক্‌, ঠিক নীচে, ঠিক ওপরে রাখা আছে।

৫ - ক্রিয়ার বিশেষণ :

যে বিশেষণ পদ ক্রিয়ার গুণ, অবস্থা প্রভৃতি নির্ণয় করে, তাকে ক্রিয়ার বিশেষণ পদ বলে।

যেমন - সে তাড়াতাড়ি হাঁটে। বিমলা আস্তে আস্তে হাঁটে।

বিশেষণ পদের বৈশিষ্ট্য :-

বিশেষণ পদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

১. বিশেষণ পদ নামপদ, সর্বনাম, ক্রিয়াপদ বা অন্য কোন পদের গুণ, পরিমাণ, অবস্থা, সংজ্ঞা, ধর্ম ইত্যাদি নির্দেশ করে।

২. বাক্যে বিশেষণ পদ বিশেষ্য পদের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে এবং সেটির বিষয়ে বিশিষ্টতা তুলে ধরে।

৩. এটি বাক্যের বিভিন্ন অংশে বিশেষ্য পদের আগে বা পরে বসতে পারে।

৪. বিশেষণ থাকলে বাক্যের অর্থ স্পষ্ট হয় এবং প্রকৃত বোঝার সুবিধা হয়।

সর্বনাম পদ কাকে বলে :-

বিশেষ্যর পরিবর্তে অন্য যে শব্দ ব্যবহৃত করা হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।

যেমন- রাহাত ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।

বিস্তারিত জানুন :- সর্বনাম পদ সম্পর্কে

উপরোক্ত এই উদাহরণের দ্বিতীয় বাক্যটিতে রাহাতের পরিবর্তে 'সে' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে 'সে' হলো সর্বনাম পদ।

সর্বনামের কত প্রকার কী কী :-

বাক্যে নানা রূপে সর্বনাম পদের প্রয়োগ হয়। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনাম পদ সমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন -

ব্যক্তি বা পুরুষবাচক : তুমি, তোমরা সে, আমি, আমরা, তিনি, তারা, তাঁরা, এ, এরা।

আত্মবাচক : স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।

সামীপ্যবাচক : এ, এই, ইহাৱা, ইনি ইত্যাদি।

দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব, সব।

সাকল্যবাচক : সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।

প্রশ্নবাচক : কি, কী, কে, কিসে, কোন, কার, কাহার।

অনির্দিষ্টভাজ্ঞাপক : কেউ, কোন, কিছু, কেহ।

ব্যতিহারিক : আপনা আপনি নিজে নিজে পরস্পর ইত্যাদি।

সংযোগজ্ঞাপক যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।

অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

সর্বনাম পদের বৈশিষ্ট্য :-

সর্বনাম পদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

১. সর্বনাম পদ বিশেষ্যপদের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। যেমন: আমি, তুমি, সে, তিনি, আমরা ইত্যাদি।

২. এরা বাক্যে ব্যক্তি, বস্তু বা উপাদানের পরিচয় দেয়।

৩. সর্বনাম ছাড়া বাক্যের অর্থ অস্পষ্ট থাকে।

৪. এগুলো বাক্যের বিভিন্ন অংশে বিষয়, কর্তা, কর্ম, সম্প্রদায় হিসেবে বসে।

৫. এরা লিঙ্গ, বচন, ব্যক্তি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

অব্যয় পদ কাকে বলে :-

লিঙ্গ, বচন, পুরুষ ও বিভক্তিতে যে পদের কখনও কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকেই অব্যয় পদ বলে। অব্যয় ছাড়া সব পদেরই লিঙ্গ, বচন, পুরুষ ও বিভক্তিতে পরিবর্তন দেখা দেয়।

বিস্তারিত জানুন :- অব্যয় পদ সম্পর্কে  

যেমন—বাঃ! কী মনোরম দৃশ্য। দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি? তোমার কিন্তু অবশ্যই যাওয়া চাই। রাম এবং লক্ষ্মণ বন গমন করেছিলেন।

এখানে বাঃ, বিনা, কিন্তু, এবং ইত্যাদি পদগুলির দ্বারা কোনো না কোনো ভাব প্রকাশ পেয়েছে। এই পদগুলি দুটি লাক্যের মধ্যে সম্বন্ধ ঘটিয়েছে। এছাড়া এই পদগুলির কোনো পরিবর্তন হয় না।

অব্যয় পদের উদাহরণ সহ পদের শ্রেণীবিভাগ :-

অব্যয় পদ প্রধানত তিন প্রকারের। যথা-

১ - পদান্বয়ী অব্যয়।

২ - অনন্বয়ী অব্যয় ও

৩ - বাক্যান্বয়ী বা সমুচ্চয়ী অব্যয়।

১ - পদান্বয়ী অব্যয় :

যে অব্যয় পদ বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত হয়ে এক পদের সঙ্গে অন্য পদকে সংযুক্ত করে, তাকে পদান্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন- দুঃখ ছাড়া সুখ লাভ হয় না। তরুণ ও সুরেন আজ ক্রিকেট খেলবে। বাড়িতে আপনার কিন্তু আসা চাই।

ওপরে উল্লেখিত বাক্য তিনটিতে ছাড়া, ও, কিন্তু এই অব্যয় গুলি বাক্যের মধ্যে বসে একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদকে যুক্ত করেছে। অতএব এগুলো পদান্বয়ী অব্যয়।

২ - অনন্বয়ী অব্যয়

যে অব্যয় পদের সঙ্গে বাক্যের অন্যান্য পদের কোনো সম্বন্ধ থাকে না, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন—বাঃ! কী সুন্দর দৃশ্য! হায়! আমার কপালে কি এই ছিল। মা আমাকে আশীর্বাদ করো।

এখানে বা: হায়, মা—এই তিনটি পদ বাক্যের বাইরে বসে প্রশংসা, খেদ, সম্বোধন ইত্যাদি বুঝিয়েছে। এই পদগুলির দ্বারা মনের বিশেষ ভাব প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু সবকটি ক্ষেত্রেই মূল বাক্যের সঙ্গে এদের কোনো সম্বন্ধ নেই।

৩ - বাক্যান্বয়ী বা সমুচ্চয়ী অব্যয় :-


যে অব্যয়, বাক্যে অন্বয় বা সম্বন্ধ তৈরি করে তাদের বাক্যান্বয়ী অব্যয় বলে।

বাক্যাম্বয়ী অব্যয়ের পদ প্রধানত কত প্রকার :-

বাক্যাম্বয়ী অব্যয় ছয় শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা -

১ - সংযোজক অব্যয় :

সংযোজক অব্যয় যে অব্যয় পদ বাক্যের সঙ্গে বাক্যের বা পদের সঙ্গে পদের সংযোগ সাধন করে, তাকেই সংযোজক অব্যয় বলে।

২ - বিয়োজক অব্যয় :

বিকল্প বোঝাতে বাক্যের মধ্যে যে অব্যয় ব্যবহৃত হয়, তাকেই বিয়োজক অব্যয় বলে।

যেমন - হয় তুমি একাজ কর নয় তাকে কাজটি করতে দাও।

৩ - সংকোচক অব্যয় :

যে অব্যয় একটি বিষয়কে সংকুচিত করে কিন্তু অন্য বিষয়কে প্রাধান্য দেয়, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।

যেমন - এখন খেলা বন্ধ করে বরং পড়াশোনায় মন দাও। ভালো খেলোয়াড় হয়েছ জানি; তবুও মন দিয়ে পড়াশোনা করো।

৪ - হেতুবাচক অব্যয় :

কারণ বোঝাতে যে অব্যয় বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাকে হেতুবাচক অব্যয় বলে।

যেমন - বাবা আমাকে মেরেছেন কারণ আমি তাঁর কথা শুনিনি।

৫ - সিদ্ধান্তবাচক অব্যয় :

যে অব্যয়ের দ্বারা সিদ্ধান্ত বোঝায় তাকে সিদ্ধান্তবাচক অব্যয় বলে।

যেমন - মশায় কামড়েছে তাই ম্যালেরিয়া হয়েছে।

৬ - নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় :

কতকগুলি অব্যয় আছে যারা একে অপরের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত একটি বসলে অপরটি বসবেই।

যেমন - বটে কিন্তু, যেমন-তেমন, যখন-তখন, যেমনি কর্ম তেমনি ফল।

অব্যয় পদের বৈশিষ্ট্য :-

অব্যয় পদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

1. অব্যয় পদ পুরুষ, বচন, লিঙ্গ ও বিভক্তির পরিবর্তনের বাইরে থাকে। এর রূপ সবসময় অপরিবর্তিত থাকে।

2. অব্যয় পদে কোন ব্যঞ্জন-স্বর বা মাত্রা পরিবর্তন হয় না।

3. অব্যয় পদ বাক্যে যে কোন অবস্থানে বসানো যায়, কিন্তু এর অর্থ পরিবর্তিত হয় না।

4. একে অন্য বিভক্তিতে রূপান্তর করা যায় না। যেমন: কত, কি, কার ইত্যাদি।

5. অব্যয় পদে বা শব্দে কোন প্রত্যয় জুড়ে না।

6. এরা সাধারণত একবাচক শব্দ।

সমাপিকা ক্রিয়া কাকে বলে :-

যে ক্রিয়াপদের দ্বারা বাক্যের অর্থ স্পষ্টরূপে প্রকাশিত হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন করেছে, ফিরবে, যাচ্ছে, পড়ছি, গিয়েছে ইত্যাদি।

সমাপিকা ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য :

১. এটি সাধারণত কাল, সংখ্যা ও ব্যক্তি নির্দিষ্ট করে।

২. এর সাথে বিভিন্ন প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কাল, সংখ্যা ও ব্যক্তি প্রকাশ করে। যেমন - করছিল, করেছিলাম, করবেন ইত্যাদি।

৩. এরা সাধারণত বাক্যের প্রধান ক্রিয়াপদ হিসেবে কাজ করে।

৪. সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া বাক্যটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

৫. এরা বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে এবং কার্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।

৬. সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া বাক্যটি অসম্পূর্ণ বোধ করায়।

৭. এরা বাক্যের মূল বা প্রধান ক্রিয়া হিসেবে কাজ করে।

অসমাপিকা ক্রিয়া কাকে বলে :-

যে ক্রিয়াপদের দ্বারা বাক্যের অর্থ স্পষ্ট হয় না তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন- ১. তুমি বাড়ী এসে... (অসমাপিকা ক্রিয়া)

২. তুমি বাড়ী এসে খেলতে যাবে। (সমাপিকা ক্রিয়া)।

অসমাপিকা ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য ও বিবরণ:

১. অসমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা কার্যের সমাপ্তি প্রকাশ পায় না।

২. এরা বাক্যের মূল বা প্রধান ক্রিয়া হিসেবে কাজ করে না।

৩. অসমাপিকা ক্রিয়ার পর অবশ্যই সমাপিকা ক্রিয়া থাকতে হবে।

৪. এদের সাহায্যে বাক্যে অর্থ সম্পূর্ণ হয় না।

৫. অসমাপিকা ক্রিয়া ছাড়াও বাক্যটি সম্পূর্ণ বোধ করায়।

৬. এদের সাহায্যে কার্যের শুরু বোঝানো হয়।

৭. এরা সাধারণত বাক্যের সহকারী ক্রিয়া হিসেবে কাজ করে।

৮. অসমাপিকা ক্রিয়ার পর সমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহার করে বাক্যকে সম্পূর্ণ করা হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ