শিলা ক্ষয় কাকে বলে? শিলা ক্ষয় কত প্রকার ও কি কি? শিলাক্ষয়ের গুরুত্ব?

শিলা ক্ষয় কাকে বলে :-

শিলা ও খনিজ বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন - সূর্যতাপ, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ, বায়ুমন্ডলীয় চাপ ও অন্যান্য রাসায়নিক শক্তির প্রভাবে ভেঙ্গে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়।

সুতরাং প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে শিলার চূর্ণ হওয়াকে শিলাক্ষয় বলে। এসব চূর্ণ বিচূর্ণ অংশের সাথে বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ মিলে কালক্রমে মৃত্তিকা তৈরি হয়।

সুতরাং যে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শিলা ও খনিজ পদার্থ মাটি সৃষ্টির জন্য আলগা বা অজমাটবদ্ধ পদার্থে পরিণত হয় তাকে শিলাক্ষয় (Weathering) বলে।

আরও পড়ুন :- মৃত্তিকা দূষণ কাকে বলে?  

বিভিন্ন বিজ্ঞানী শিলাক্ষয়কে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

বিজ্ঞানী N. C. Brady'র মতেও প্রাকৃতিক উপায়ে বায়ুমন্ডলীয় শক্তির প্রভাবে ভু-ত্বকের উপরে শিলার ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনকে শিলাক্ষয় বলে।

অন্যদিকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানী এম. এম. রাই এর মতে, শিলাক্ষয় এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ভূ-ত্বকের কঠিন শিলা ভেঙ্গে মৃত্তিকার উৎস বস্তুতে পরিণত হয়।

শিলাক্ষয়ের গুরুত্ব :-

কঠিন শিলাকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ভৌত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভেঙ্গে মৃত্তিকার উৎস বস্তুতে (Soil Parent material) উন্নীত করা এবং সর্বোপরি মৃত্তিকায় রূপান্তরিত করার সুদীর্ঘ প্রক্রিয়া সাধনে শিলক্ষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং শিলাক্ষয় ব্যতিরেকে মাটি সৃষ্টির কথা কল্পনা করা যায় না।
শিলা ক্ষয় কাকে বলে

শিলা ক্ষয় কত প্রকার ও কি কি :-

শিলাক্ষয় প্রধানত দুই প্রকার যথা-

১. ভৌত শিলাক্ষয় (Physical Mechanical weathering)
২. রাসায়নিক শিলাক্ষয় (Chemical weathering)

এই দুই প্রকার শিলাক্ষয় সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হলো -

ভৌত শিলাক্ষয় :-

প্রাকৃতিক শক্তিসমূহ যেমনঃ তাপমাত্রা, বায়ু প্রবাহ, হিমবাহ, নদী প্রবাহ ইত্যাদির প্রভাবে বড় বড় শিলা ও খনিজ পদার্থ ভেঙ্গে ছোট আকারে পরিণত হওয়াকে ভৌত শিলাক্ষয় বলে।

এ প্রক্রিয়ায় শুধু শিলা বা খনিজের ভৌত পরিবর্তন হয়। রাসায়নিক উপাদানের কোন পরিবর্তন হয় না বলে রাসায়নিক বৈশিষ্টোরও কোন পরিবর্তন হয় না।

যেমন : গ্র্যানাইট শিলা ভেঙ্গে গ্র্যানাইট শিলার কয়েকটি টুকরো হতে পারে কিন্তু গ্র্যানাইটের বৈশিষ্ট্যের কোন পরিবর্তন হয় না।


ভৌত শিলা ক্ষয়ের উপাদানসমূহ :-

ক) তাপমাত্রা

খ) বায়ু প্রবাহ

গ) হিমবাহ

ঘ) নদী প্রবাহ

ঙ) উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রভাব

চ) বরফ জমা ও গলা

ছ) পানি

জ) মাধ্যাকর্ষণজনিত শক্তি।

রাসায়নিক শিলাক্ষয় :

শিলা ও খনিজ পদার্থসমূহ ভৌতভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার পর পরই শুরু হয় রাসায়নিক বিয়োজন। এটি বিশেষত উষ্ণ ও আর্দ্র এলাকায় উল্লেখযোগ্য হারে ঘটে যেখানে ভৌত ও রাসায়নিক শিলাক্ষয় নিবিড়ভাবে সংঘটিত হয় এবং একে অপরকে ত্বরান্বিত করে।

জলের উপস্থিতিতে রাসায়নিক শিলাক্ষয় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। উদ্ভিজ্জ অবশিষ্টংশের জীবাণুঘটিত ভাঙ্গনের (Breakdown) ফলে O2 এবং জৈব ও অজৈব এসিড সৃষ্টি হয়। এদের যুগপৎ ক্রিয়ায় রাসায়নিক শিলাক্ষয় ত্বরান্বিত হয়।

এ সমস্ত এজেন্ট যৌথভাবে প্রাথমিক খনিজের উপর ক্রিয়া করে এদেরকে সেকেন্ডারী খনিজে রূপান্তরিত করে এবং পরিশেষে উদ্ভিদের অপরিহার্য খাদ্য উপাদানে পরিণত হয়। রাসায়নিক শিল্পাক্ষয়ের ফলে শিলা ও খনিজের স্থায়ী রাসায়নিক পরিবর্তন সাধিত হয়।

রাসায়নিক শিলাক্ষয়ের উপাদানসমূহ :-

ক) দ্রবণ (Solution)

খ) আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis )

গ) পানি সংযোজন (Hydration)

ঘ) কার্বোনেশন

ঙ) জারণ

চ) বিজারণ

আরও পড়ুন :- শিলা কাকে বলে?

ভৌত ও রাসায়নিক শিলাক্ষয়ের পার্থক্য :-

ভৌত শিলাক্ষয়রাসায়নিক শিলাক্ষয়
বড় আকারের শিলার ভাঙ্গন ঘটায়।
রাসায়নিক পরিবর্তন সাধিত হয়।
শিলাস্থ খনিজ যৌগ পৃথকীকৃত হতে থাকে। এবং নতুন খনিজ সৃষ্টি হয় না।নতুন খনিজ সৃষ্টি হতে পারে।
শিলা ভেঙ্গে ছোট হতে ছোট হতেই থাকে।
উৎপন্ন খনিজের সহজে ক্ষয় হয় না।
শিলাক্ষয়ে বেশি প্রভাব রাখে।খনিজের ক্ষয়ে অধিক প্রভাব রাখে।
প্রভাবকারী উপাদান হিসেবে জলবায়ু প্রধান।
মৃত্তিকা পরিবেশ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানতঃ মৃত্তিকা উৎপন্ন করে।প্রধানতঃ মৃত্তিকার উর্বরতা নিয়ন্ত্রণ করে।
অধিকাংশ মৃত্তিকার উপরিস্তরে সংঘটিত হয়।মাটির উপর ও নিম্নস্তরে সংঘটিত হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ