ব্যবসায় সংগঠন কাকে বলে? ব্যবসায় সংগঠনের শ্রেণিবিভাগ?

যে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বহুবিধ কার্যক্রম চালাতে হয়। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের এই যে বহুমাত্রিক এবং বহুবিভক্ত কর্মপ্রচেষ্টা তা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলে লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মপ্রচেষ্টাকে একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একসূত্রে গধিত করে নিতে হয়। প্রতিষ্ঠানের বহুমুখী কর্মপ্রচেষ্টার মধ্যে সমন্বয় সাধনের এ প্রতিক্রয়াকে ব্যবসায় সংগঠন বলে।

এ সংগঠন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। ব্যবসায় আরম্ভ করতে হলে বিভিন্ন উপাদান, পরিবেশের প্রভাব ইত্যাদি বিষয় বিচার-বিবেচনা করে দেখতে হয়। এ পোস্টে আমরা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন সম্পর্কে আলোচনা করবো।

ব্যবসায় সংগঠন কাকে বলে :-

প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভূমি, শ্রম, মূলধন, প্রযুক্তি ইত্যাদি উপকরণসমূহ সংগ্রহ ও সেগুলো সমন্বয় সাধনের প্রক্রিয়াকে ব্যবসায় সংগঠন বলে।

ব্যবসায় সংগঠন সম্পর্কে কয়েকজন ব্যক্তির সংজ্ঞা আলোচনা করা হলো:

আরও পড়ুন:- সমবায় সমিতি কাকে বলে?

কু এবং ও ডোন্যাল- এর মতে “সংগঠন হলো একটি সম্পর্কের কাঠামো যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক উপকরণাদি সমবেত করা হয় এবং সকল উপকরণাদি ঘিরে ব্যক্তির প্রচেষ্টাবলি সমন্বিত করে।"

জে. ডাব্লিউ সুলজ এর মতানুসারে "প্রত্যাশিত কতিপয় উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় জনশক্তি, কাঁচামাল, হাতিয়ার, যন্ত্রপাতি, কাজের স্থান ও আনুষঙ্গিক বস্তুসমূহের সম্মিলনে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকরণসহ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাই ব্যবসায় সংগঠন।"

এম. এইচ. হ্যানি বলেন, “কোনো সাধারণ উদ্দেশ্য বা উদ্দেশ্যাবলি অর্জনের জন্য ব্যবসায়ের বিশেষ বিশেষ অংশ বা উপাদানসমূহকে সুষ্ঠুভাবে সমন্বয় সাধনের প্রক্রিয়াকে সংগঠন বলে।"
ব্যবসায় সংগঠন কাকে বলে

ব্যবসায় সংগঠনের শ্রেণিবিভাগ :-

ব্যবসায়ের সূচনা লগ্নে যে ব্যবসায়িক কর্মকান্ড প্রচলিত ছিল তা সবই ছিল একমালিকানাধীন। কিন্তু সময়ের সিঁড়ি বেয়ে

ব্যবসায়ের ধরনে এসেছে বৈচিত্র্য। মানুষের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন ব্যবসায় সংগঠন।

ব্যবসায়ের প্রকৃতি, মালিকানা, কার্যক্ষেত্র, আয়তন ইত্যাদিভেদে ব্যবসায় ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে। মালিকানার উক্তি অনুসারে ব্যবসায় সংগঠনকে নিম্নে শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।

১. একমালিকানা ব্যবসা।
২. অংশীদারি ব্যবসায়।
৩. কোম্পানি সংগঠন।
8. সমবায় সমিতি।
৫. ব্যবসায় জোট।
৬. রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় এবং
৭. যৌথ উদ্যোগমূলক ব্যবসায়।

এখানে সংক্ষেপে বিভিন্ন ব্যবসায় সংগঠন সম্পর্কে আলেচনা করা হলো।

১. একমালিকানা ব্যবসায় (Sole proprietorship business) :-

যে ব্যবসায় সংগঠন একজন মাত্র মালিক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। ব্যবসায়ের মালিক নিজেই এ ব্যবসায়ের সব ধরনের ঝুঁকি বহন করেন এবং লাভ লোকসানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২. অংশীদারি ব্যবসায় ( Partnership business) :-

দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ হয়ে নিজেদের মধ্যে মুনাফা বন্টনের নিমিত্তে যে ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। এ ব্যবসায়ের সদস্য সংখ্যা ২-২০ জন এবং ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে ২-১০ জন। এ ব্যবসায় মালিকের পরিচালনাধীনে কিংবা সকলের পক্ষে একজন কর্তৃক পরিচালিত হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন:- ব্যবসায় উদ্দেশ্য লিখ?

৩. কোম্পানি সংগঠন (Company organisation) :-

কতিপয় ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিলিত হয়ে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সম্মিলিতভাবে পুঁজি সরবরাহ করে সীমাবদ্ধ দায়ের ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গঠন করে তাকে কোম্পানি সংগঠন বা যৌথ মূলধনী কোম্পানি বলে। কোম্পানি সংগঠন দুই প্রকার -
  1. পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ও
  2. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

৪. সমবায় সমিতি (Cooperative society) :-

সমাজের ভ্রমজীবী, মধ্যবিত্ত ও স্বল্পবিত্তের কতিপয় ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিলিত হয়ে সমাধিকারের ভিত্তিতে নিজেদের আর্থিক উন্নতির জন্য যে ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তোলে তাকে সমবায় সমিতি বলে। মুনাফা অর্জন নয়, সদস্যদের কল্যাণসাধনই এ সমিতির প্রধান উদ্দেশ্য।

৫. ব্যবসায় জোট (Business combination) :-

বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার অবসান ঘটিয়ে ব্যবসায় জগতে একচেটিয়া আধিপত্য লাভের জন্য যে জোট গঠন করে তাকে ব্যবসায় জোট বলে।

জোট গঠনের ফলে নিজেদের আর্থিক সংগতি বৃদ্ধি পায় এবং বৃহদায়তন উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জোটের বিভিন্ন রূপ হচ্ছে-হোল্ডিং কোম্পানি, ট্রাস্ট, কার্টেল, উৎপাদন সংঘ ইত্যাদি।

৬. রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় (state business ) :-

বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কল্যাণার্থে রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পরিচালিত ও নিয়তি ব্যবসায়কে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে। সরকার কর্তৃক গঠিত বা জাতীয়করণকৃত বৃহৎ ব্যবসায়ই রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অস্ত্র কারখানা, বিমানবন্দর, নৌবন্দর, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, পোস্ট অফিস ইত্যাদি বৃহৎ সংগঠন রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের উদাহরণ।

৭. যৌথ উদ্যোগমূলক ব্যবসায় (Joint venture) :-

দেশি ও বিদেশি উভয় প্রকার উদ্যোক্তদের সম্মিলিত মূলধনের সহযোগে যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে যৌথ উদ্যোগমূলক ব্যবসায় বা Joint venture বলে।


যেসব ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পক্ষে মূলধনের সম্পূর্ণ অংশ যোগান দেওয়া সম্ভব হয় না এবং ব্যবসায়ের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয় সেসব ক্ষেত্রে Joint venture উপযোগী। বর্তমানে এ ব্যবসায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ